২৪ ঘণ্টায় ১১৮ ভূমিকম্প

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১১৮ টি ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানিয়েছে ভূমিকম্পের তথ্য নিয়ে কাজ করা জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘আর্থকোয়াকট্র্যাকার ডটকম’।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) ওয়েবসাইটটির দুপুরের আপডেটে এ তথ্য জানানো হয়।

সেখানে আরও জানানো হয় গত সাতদিনে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৮৫১টি ভূমিকম্প এবং গত একমাসে তিন হাজার ৫৪৩ টি ভূমিকম্প হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে আচমকা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে বাংলাদেশ। কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে প্রাণ যায় ১০ জনের। আহত হন ছয় শতাধিক মানুষ। মুহূর্তের মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ভীতি ও আতঙ্ক। এরপর ৩২ ঘণ্টার মধ্যে আরও তিন দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত বা মিয়ানমার নয়, প্রতিটি ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল ছিল দেশের ভেতরে নরসিংদী, মাধবদী, সাভারের বাইপাইল ও রাজধানীর বাড্ডায়। ঢাকা এবং এর কাছাকাছি এলাকা ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে রাজধানীবাসীর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে নানা ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গ্যাসকূপ খনন ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ কাজও স্থগিত রাখা হয়েছে।

ঝুঁকি মোকাবিলায় সব পর্যায়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘এ ভূমিকম্প আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা। এ বার্তা অবহেলা করলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো চিহ্নিত করে সেগুলো সিল বা অপসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ বিপর্যয় ঠেকাতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

এদিকে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ইমার্জেন্সি রেসপন্স সেল গঠন এবং আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ০২৫৮৮১১৬৫১ নম্বরে কল করলে দ্রুত সাড়া পাওয়া যাবে।

সনদ বাস্তবায়নে সংসদকে বাধ্য করার উপায় পায়নি কমিশন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত হবে, তার হাতে যেতে পারে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব। ৯ মাসের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের শর্ত দেওয়া হবে তাদের। কিন্তু পরিষদ শর্ত না মানলে কী হবে, তা ঠিক করতে পারেনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ফলে গণভোটে সাংবিধানিক আদেশ অনুমোদিত হলেও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। বিশেষজ্ঞরা সনদ বাস্তবায়নে নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু কমিশন বাধ্যতামূলক করতে চায়, তবে তার উপায় বের করতে পারেনি।

গতকাল শনিবারও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। বৈঠক সূত্র সমকালকে জানায়, আগামী সংসদের কাঠামো এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক, নাকি নির্দেশনামূলক হবে– এ বিতর্কে আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে। ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশে’ ৯ মাসের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন নির্দেশনামূলক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে গতকাল রাতে কমিশন সূত্র সমকালকে জানায়, বাধ্যতামূলক করার কোনো না কোনো পথ রাখা হবে, যা ঠিক হতে পারে আজ রোববারের বৈঠকে।

বৈঠক সূত্র জানায়, সাংবিধানিক আদেশের কাঠামো তৈরি হয়েছে। আজ কমিশনের বৈঠকে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতামত নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে সাংবিধানিক আদেশের খসড়া। এরপর জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি সরকারকে সুপারিশ করবে কমিশন। সরকার সাংবিধানিক আদেশ জারি করবে। তাতে বলা থাকবে, গণভোট কবে হবে।

জানতে চাইলে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ গতকাল সমকালকে বলেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। আদেশের কাঠামো অনেকটাই প্রস্তুত। শিগগির খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।

আদেশের কাঠামো তৈরি
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সাংবিধানিক আদেশের নাম হবে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ-২০২৫’।  গত কয়েক দিনের বৈঠকে এর যে কাঠামো তৈরি হয়েছে তা হলো– জুলাই সনদ নয়, গণভোট হবে এ আদেশের ওপর। জনগণ অনুমোদন দিলে আগামী সংসদ দ্বৈত ভূমিকায় থাকবে। একই সঙ্গে সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবে। সরকার গঠন ও আইন প্রণয়ন করবে সংসদ। আর পরিষদ ৯ মাসের মধ্যে সংবিধান সংশোধন, পরিমার্জন, পরিবর্তন করে জুলাই সনদে উল্লিখিত সংস্কারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। গণভোটে প্রাপ্ত কন্সটিটুয়েন্ট পাওয়ারে (গাঠনিক ক্ষমতা) সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বদল করতে পারবে।

গতকাল সকালে সংসদে এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করে ঐকমত্য কমিশন। এর পর দুপুর থেকে চার ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে বৈঠক করে। 
জুলাই সনদে সই না করা এনসিপির দাবি, সাংবিধানিক আদেশ ও গণভোটের মাধ্যমে আগামী সংসদের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে। তবেই তারা সনদে সই করবে।

কমিশনের এক সদস্য সমকালকে বলেন, বৈঠকে এনসিপির প্রতিনিধিরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা সনদে সই করতে চান। তবে কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। সেগুলো বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে ব্যাখ্যার জন্য। এনসিপির প্রস্তাবে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিকই আছে। সেগুলো বিবেচনা করে এগোচ্ছি। মূল লক্ষ্য, সব দল যেন সনদে সই করে।

সংসদকে বাধ্য করতে তিন বাধা
কমিশন ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলের দুই সদস্য সমকালকে বলেন, নির্ধারিত ৯ মাসের মধ্যে সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার না করলে কী হবে– এ-সংক্রান্ত তিনটি বিকল্প নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রথম বিকল্প– ৯ মাসের মধ্যে ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ ও সংসদ বিলুপ্ত হবে। নতুন নির্বাচনে নতুন করে পরিষদ গঠিত হবে। কিন্তু এতে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। আইনিভাবে এ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলেও রাজনৈতিকভাবে নয়। কারণ, সংস্কার না করার কারণে ৯ মাস পর সংসদ বিলুপ্ত হলে পরের নির্বাচন কার অধীনে হবে, এর জবাব মিলছে না।

দ্বিতীয় বিকল্প– ৯ মাসের মধ্যে সংস্কার না করলে জুলাই সনদ অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে। এ প্রস্তাবও বাতিল হয়েছে আলোচনায়। কমিশনের এক সদস্য সমকালকে বলেন, সনদে সংস্কারের প্রথম সিদ্ধান্ত ভাষা-সংক্রান্ত। এতে বলা হয়েছে, বাংলা হবে রাষ্ট্রভাষা। নাগরিকদের অন্যান্য মাতৃভাষাও স্বীকৃতি পাবে। সনদে বলা হয়নি, কোন কোন ভাষা স্বীকৃতি পাবে। বিষয়টি নির্ধারণ করবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ। জুলাই সনদ সংবিধান সংশোধনের বিল নয়, ফলে ৯ মাস পার হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংস্কার সম্ভব নয়। এখনও কোনো সংস্কার বিল খসড়া করা হয়নি। কাজটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের, যারা পরিষদ বা সংসদে বসে বিতর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তৃতীয় বিকল্প– নির্বাচনের পর প্রথমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে। দ্রুত সনদ অনুযায়ী সংস্কার করার পর পরিষদ সদস্যরা সংসদ গঠন করবেন। তারপর সরকার গঠিত হবে। বৈঠক সূত্র জানায়, এ পদ্ধতি আইনিভাবে সঠিক হলেও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, নির্বাচনের পরও কয়েক মাস সংসদ গঠন না হলে সরকারে কে থাকবে? অন্তর্বর্তী সরকারকে ততদিন মানবে না রাজনৈতিক দলগুলো। বর্তমান সরকারও নির্বাচনের পর থাকতে রাজি নয়। কমিশন ২৭০ দিনের সময়সীমা রাখবে। কিন্তু সময় শেষে কী পরিণতি হবে, তা উল্লেখ থাকবে না সুপারিশে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, এসব কারণে সনদ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক না করে নির্দেশনামূলক করা হতে পারে আগামী সংসদের জন্য। সইকারী রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় গিয়ে সনদ মানবে– এই আশাবাদ ছাড়া কিছু করার নেই।

শেষ সময়েও সুরাহা হয়নি অনেক কিছু
গতকালের বৈঠকে আরেকটি আলোচ্য ছিল, জুলাই সনদ পরিষদে অনুমোদনের পদ্ধতি কী হবে? তা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, নাকি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদন করবে?– এসব নিয়েও মতভেদ রয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, বাহাত্তরের গণপরিষদ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংবিধান অনুমোদন করেছিল। পৃথিবীর সব দেশেই এই নীতি অনুসরণ করা হয়। কিন্তু সংবিধান সংশোধনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাধ্যতামূলক। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক সদস্য বলেছেন, জুলাই সনদে যেসব সংস্কারের সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেগুলো সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায়, অর্থাৎ ১৫১ আসন পেলে অনুমোদন করতে পারবে পরিষদ। জুলাই সনদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে দুই-তৃতীয়াংশ তথা ২০০ এমপির সমর্থন লাগবে– এমন বিধান রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বৈঠকে পরিষদ ও সংসদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, সংসদের স্পিকার ও পরিষদের চেয়ারম্যান একই ব্যক্তি হবেন। আর বিষয়টি উল্লেখ থাকবে সাংবিধানিক আদেশে। 

জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির দাবি, আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি নয়, সাংবিধানিক আদেশ জারি করবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গঠিত সরকারপ্রধান। কমিশন সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা সুপারিশ করবে না। এ সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

বিশেষজ্ঞ প্যানেলের এক সদস্য বলেছেন, এমন পথ খোঁজা হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও আইনিভাবে টেকসই। গণভোট নির্বাচনের দিনেও হতে পারে; আবার আগে করাও সম্ভব। এটা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

নোট অব ডিসেন্ট নিয়ে জটিলতা
জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কারের মধ্যে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনসহ ৯টি মৌলিক সংস্কারের সিদ্ধান্তে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) রয়েছে। দলটি বলছে, ক্ষমতায় গেলে এগুলো বাস্তবায়ন করবে না। জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের দাবি, পুরো সনদ নিয়ে গণভোট হতে হবে। গণভোট অনুমোদন করলে পুরো সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।

আগের দুদিনের মতো গতকালের বৈঠকেও নোট অব ডিসেন্টের সুরাহা হয়নি। বিশেষজ্ঞ প্যানেল পরামর্শ দিয়েছে, গণভোটে নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না। নোট অব ডিসেন্ট থাকলে কার্যত সংস্কার হবে না। গণভোট হবে একটি প্রশ্নে।

বিএনপি এবং সমমনা দলগুলোর আপত্তির কারণে কমিশন এ বিষয়ে গতকালও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে এক সদস্য জানিয়েছেন, কমিশন নোট অব ডিসেন্ট রাখতে চায় না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সরকারপ্রধান সব দলের ঐকমত্যে জোর দিচ্ছেন। ফলে কমিশন ভিন্নমত না রাখার সুপারিশ করলেও, সরকার তা কার্যকর করে আদেশ জারি করবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেন বিচারপতি এম এ মতিন, বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরিফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক এবং ব্যারিস্টার তানিম হোসাইন শাওন।

কমিশনের পক্ষে ছিলেন সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

রাজধানীর ১০ স্থানে  আ.লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ১৩১

রাজধানীর অন্তত ১০টি স্থানে ঝটিকা মিছিল করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এসব মিছিল হয়। ওই সময় এবং পরবর্তীকালে অভিযান চালিয়ে ১৩১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের আজ গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ৬, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ২, গুলশানে ২৪, খিলক্ষেতে ৪, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৩, ধানমন্ডিতে ৬, নিউমার্কেটে ৬, শাহবাগে ৩, মোহাম্মদপুরে ৮, হাতিরঝিলে ১, পল্টনে ৬ ও মতিঝিলে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর কুড়িল, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী, ধানমন্ডি, তেজগাঁও, বাটা সিগন্যাল, আগারগাঁও, মৎস্য ভবন ও মতিঝিল এলাকায় আজ মঙ্গলবার মিছিল করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ। এসব ঝটিকা মিছিলে কোথাও ৮–১০ জন, আবার কোথাও বেশিসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মিছিলের সত্যতা নিশ্চিত করে বলা হয়, তাদের অপতৎপরতা বন্ধে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। 

এদিকে আজ ভোর ও সোমবার দিনের বিভিন্ন সময়ে রাজধানীতে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তারা হলেন– কক্সবাজারের ডুলহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এখলাস মিয়া, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি থানা ছাত্রলীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান, আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া সাইফুল ইসলাম, মাদারীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক জুয়েল আহাম্মেদ রনি, ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া রিয়াজ উদ্দিন ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আক্তার হোসেন।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় উত্তরা থেকে এখলাস মিয়া, সকাল সাড়ে ৭টায় আদাবর থেকে জিয়াউর রহমান ও রাত ১১টায় পোস্তাগোলা থেকে সাইফুল ইসলাম এবং মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টায় গুলিস্তানের একটি আবাসিক হোটেল থেকে জুয়েল আহাম্মেদ রনি, রিয়াজ উদ্দিন ও আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আগামীকাল দেশে ফিরবেন শহিদুল আলম

ফ্রি প্যালেস্টাইন অভিযানে অংশ নেওয়ার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়া বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম মুক্তি পেয়েছেন।

আগামীকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।  

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুলে পৌঁছান তিনি। সেখানে বাংলাদেশি কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাকে স্বাগত জানান। 

তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আমানুর রহমান জানান, শহিদুল আলমের দেশে ফেরার ফ্লাইটটি শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল থেকে ছাড়ার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহিদুল আলমের মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সহায়তার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শহিদুল আলমকে আটকের পর জর্ডান, মিশর এবং তুরস্কে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং তার মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে।

Design a site like this with WordPress.com
Get started